Academy

লালমনিরহাটের যুবায়ের প্রায় ১০ বছর ধরে তার পোষাহাতি কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানো ইত্যাদি কাজ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খোরাক জোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাঁধা রশি ধরে হাজার টানাটানি করে একচুলও নাড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরদিন খদ্দের আরও বেশি লোকজন সাথে করে এসে কালাপাহাড়কে নিয়ে যাবে বলে চলে যায়। কিন্তু ভোরবেলা যুবায়ের দেখে- কালাপাহাড় মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিৎকার করে আর বলে- 'ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি!'

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন? (জ্ঞানমূলক)

Created: 3 months ago | Updated: 3 months ago
Updated: 3 months ago
Ans :

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'জগত্তারিণী স্বর্ণপদক' লাভ করেন।

3 months ago

সাহিত্য কনিকা

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তন।

চাকরদের ভয়ে লেখকের অতিথি কুকুরটি কিছুতে ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না।

লেখক কুকুরটিকে অন্ধকার পথে বাড়ি পর্যন্ত পৌছে দেওয়ার জন্য বললেন। তার লেজ নাড়তে দেখে লেখক বুঝলেন সে রাজি আছে। তিনি কুকুরটিকে সাথে নিয়ে বাড়ির সামনে এলেন। গেট খুলে ওই কুকুরকে ভেতরে ডাকলেন। কিন্তু কুকুরটি বাইরে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়তে লাগল। ভেতরে ঢুকল না কারণ কুকুরটি ভয় পেয়েছিল। সে ভেবেছিল ভেতরে ঢুকলে হয়তো তাকে প্রহার করা হবে।

উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক কুকুরের প্রতি যে স্নেহপূর্ণ আচরণ করেছেন সেই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। অনেক মানুষ পশু-পাখিকে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে। এই পশু-পাখি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথিও হয়ে ওঠে।

উদ্দীপকের মহেশ হলো দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড়। দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারে না বলে কষ্টে তার বুক ফেটে যায়। সে মহেশের গলা জড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, মহেশ তার ছেলে, তাকে পেটপুরে খেতে দিতে না পারলেও তাকে সে অনেক ভালোবাসে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের অতিথি পথের একটি কুকুর, বেড়াতে যাওয়ার সঙ্গী। লেখক চাকরকে বলেন, কুকুরটি যদি গেটের ভেতরে আসে তবে তাঁকে যেন খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিথি গেটের ভেতর না ঢুকে চলে যায়। পরদিন তিনি অতিথিকে গেটের বাইরে দেখে জানতে চাইলেন, গতকাল তার নিমন্ত্রণে সে এলো না কেন। আজ যেন সে খেয়ে যায়, না খেয়ে যেন যায় না। এছাড়াও দেওঘর থেকে ফেরার সময় লেখকের খুব কষ্ট হয় তাকে ছেড়ে আসতে। এভাবে উদ্দীপকের মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখকের কুকুরের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

"উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষের সাথে মানুষের যেমন স্নেহ-মমতার সম্পর্ক বিদ্যমান তেমনই প্রাণীর সাথেও মানুষের মমতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। পশু-পাখিও মানুষের ভালোবাসা বুঝতে পেরে তার প্রতিদান দেয়।

উদ্দীপকের গফুরের পোষা প্রাণী একটি ষাঁড়- নাম মহেশ। সে দারিদ্র্যের কারণে মহেশকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি দিতে পারে না। খাবারের জন্য মহেশের দুঃখের সীমা নেই দেখে সন্তানতুল্য মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদে গফুর। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পে কয়েক দিনের জন্য বেড়াতে আসা লেখকের সাথে একটি কুকুরের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। তাকে রেখে বাড়ি ফিরে যাওয়ার জন্য লেখকের মনে আগ্রহ ছিল না।

উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের প্রাণীর প্রতি সহানুভূতির দিক দিয়ে মিল লক্ষ করা যায়। কিন্তু গফুর দারিদ্র্যের কারণে তার পোষা প্রাণী মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারছে না। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক বেড়াতে এসে একটি কুকুরের সাথে স্নেহের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তিনি চাকরদের দিয়ে তাকে খাবার খেতে দেন। প্রাণীর প্রতি গফুর ও আলোচ্য গল্পের লেখকের মমতা প্রমাণ করে চেতনাগতভাবে তারা এক। কিন্তু পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক দিক দিয়ে উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

লেখকের অতিথি কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগার কারণে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।

'অতিথির স্মৃতি' গল্পের লেখক পথে বেড়াতে বের হতেন একা একা। একদিন বাড়ি ফিরতে তার সন্ধ্যা হয়ে যায়, পথের একটি কুকুর সঙ্গী হয়। তারপর থেকে প্রতিদিন কুকুরটি বাড়ির গেটের সামনে লেখকের জন্য অপেক্ষা করে। কুকুরটির এরূপ আচরণে লেখকের মনে কুকুরটির জন্য অকৃত্রিম মমত্ববোধ জেগে ওঠে। তাই দেওঘর থেকে যখন বিদায় নেওয়ার দিন এসে পড়ে তখন কুকুরটিকে ছেড়ে যেতে খারাপ লাগায় লেখক নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন।

কালাপাহাড়ের আচরণে 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির থেকে ভিন্ন। কারণ কালাপাহাড়ের অনুভূতি ও চেতনা অতিথির থেকে বেশি।

মানুষ তার মানবীয় গুণের কারণে পশু-পাখিকে ভালোবাসে। পশু-পাখিও মানুষের সেই ভালোবাসা বুঝতে পারে এবং বিভিন্নভাবে তারই প্রতিদান দেয়। স্নেহ-মমতার সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতায় পশু-পাখিও কষ্ট পায়।

উদ্দীপকের যুবায়ের ১০ বছরের পোষা হাতি কালাপাহাড়কে দারিদ্র্যের কারণে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু সে কিছুতেই তার মনিবকে ছেড়ে যেতে চায়নি। তাই তো শেষ পর্যন্ত সে অভিমানে মরে গেছে। 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের কুকুরটি দুই দিন লেখকের দেখা না পেয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। লেখকের বিদায়ের দিন কুকুরটিও কুলিদের সাথে ছোটাছুটি করতে থাকে, যেন সব ঠিক থাকে। লেখকের বিদায়ের সময় কুকুরটিও স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে উদ্দীপকের কালাপাহাড় ও অতিথি স্নেহ-মায়া-মমতায় এক হলেও কালাপাহাড়ের আচরণ 'অতিথির স্মৃতি' গল্পের অতিথির আচরণের থেকে ভিন্ন জীবন। দিয়ে সে নিজের যাওয়া ঠেকায়।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...